আগামীর বাংলাদেশ তৈরিতে তরুণ সমাজ এগিয়ে আসতে হবে, এটা নিয়ে আমরা সবসময় শুনছি, এখন তরুণ সমাজ এগিয়ে আসতে হলে অনেক জায়গা কাজ করতে পারে, তবে বিশ্বব্যবস্থায় নিজেদের তুলে ধরতে ব্যবস্যা-বানিজ্য এক্সপানশন ছাড়া যেই বাংলাদেশ দেখতে চাই, সে অর্জন করা অনেক কঠিন বিষয়, আমি বিগত কয়েকবছর ধরে বিশ্ব ব্যবস্যা ও বাংলাদেশের ব্যবস্যা কাঠামো নিয়ে কাজ করার চেস্টা করছি, বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে কিভাবে স্টার্টআপ বা টেকবিজনেস করা। যদিও কিছুই করতে পারি নি তবে আমার কাছে কিছু বিষয় বাধা মনে হয়েছে সেটা নিয়ে কথা লেখার চেস্টা করছি, প্রতি পর্বে ৩টা সমস্যা লেখার চেস্টা করবো

১। ইনভেস্টমেন্ট সমস্যাঃ আমাদের দেশে একটা স্টার্টআপ শুরু করার আগেই শেষ হয়ে যায়। কারণ এঞ্জেল ইনভেস্ট লেভেলে আমাদের তেমন সুযোগ সুবিধা নাই বললেই চলে। আর স্টার্টআপ বাংলাদেশ নামে যে প্রতিষ্ঠান আছে সেখানে রেকোমেন্ডেশন ছাড়া কোনো গ্রান্ড পাওয়া যায় না। আমি কয়েকবার সেখানে আইডিয়া সাবমিট করেছি, কোনো দিন শুনেওনি কি নিয়ে কাজ করেছি, বা ধরে নিলাম আমার আইডিয়াতে সমস্যা আছে, কোথায় কোথায় কাজ করা উচিত সেটা বলা। আচ্ছা এবার আসি অন্যান্য ইনভেস্টমেন্ট, আমাদের যারা ইনভেস্ট করতে চাই তারা ১০ লাখ টাকা দিয়েই কোম্পানীর ৫০% চাই, কিন্তু একটা টেক কোম্পানী দাড় করাতে ৫ থেকে ৭ বছরেই ১০০ থেকে ৫০০ কোটি খরচ হয়। সেখানে আপনি প্রথম দিনেই যদি ৫০% নেন, তাইলে তো ফাউন্ডারদের কাজের দম শেষ।
সমাধান হতে পারেঃ
আমাদের স্টার্টআপ বাংলাদেশ বা আইসিটি ডিভিশনের উচিত আমাদের দেশে যারা স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করতে চাই, যদি সম্ভব হয় একটা বাজে আইডিয়া কেউ ১ থেকে ১০ লাখ টাকা গ্রান্ড দেওয়া, তবে শর্ত থাকবে কাজ করা লাগবে, ফেল করলেও । কাজ না করে টাকা নিলে ঐটাকা ফেরত দেওয়া লাগবে।। দ্বিতীয় বিষয় হলোঃ টেক স্টার্টআপ সবচেয়ে রিস্কেবল ইনভেস্টমেন্ট প্রায় ১০০ টা স্টার্টআপের মধ্যে ৭-১০ টা কোম্পানী সাকসেস হয়, তাই এই বিষয় জানানো যারা ইনভেস্ট করবে। যদি স্বপ্ন প্রথমেই মারা যায় তাহলে সেটা সফল করা অনেক কঠিন।। সর্বশেষ বিষয়ঃ কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর কে বান্দরবানে ছেলে এটা দেখার বিষয় নয় কার আইডিয়া এবং এক্সিকিশন লেভেল হাই সেটা দেখা উচিত।
2। ইনভেস্টমেন্ট দেশে আনাঃ আমাদের দেশের বেশিরভাগ কোম্পানী রেজিস্ট্রেশন করা দেশের বাহিরে, ১০ মিনিট স্কুল এর সিংগাপুর, শিখো এর ইউকে, ডকটাইম এর ইউকে সহ অন্যান্য কোম্পানীর আছে যারা মুলত আপরাইজিং স্টার্টআপ, এর কারণ কি জানেন? অনেকেই অনেক কিছুই বলবেন কিন্তু মুল কারণ হলো বাংলাদেশে সহজেই টাকা আনা সম্ভব না, বিভিন্ন ট্যাক্স আর নিয়মের বেড়াজালে আপনি ১০০ টাকা ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে আসলে হয়তো ৮০ টাকা নিয়ে আসতে পারবেন, তারপর আপনার দেশ থেকে সহজভাবে টাকা ইনভেস্টরদের প্রফিট পাঠানোও কঠিন, এইজন্য প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট অনেক কমই হয় এইখানে।
সমাধান হতে পারেঃ
দেশে সরাসরি ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে আসার পথ সহজ করতে হবে, যাতে আমাদের দেশীয় কোম্পনী দেশের জনবল নিয়ে কাজ করতে পারে, ইনভেস্টমেন্ট রিটার্ন পলিসিও সহজ করা, যাতে বিদেশীরা আমাদের স্টার্টআপ গুলোতে বিনিয়োগ করে।
৩। আইসিটি ডিভিশনে যারা স্টার্টআপ বা আইডিয়া বাছায় করেন বা এইখানে যারা বিসিএস বা অন্যান্য জায়গা থেকে এসেছেন, তারা কতটুকু স্টার্টআপ ফ্রেন্ডলি হবেন আমার জানা নাই ভালো, তবে যতটুকু ধারণা এনারা এইবিষয়গুলো যে ভিশনারী সেটা নিয়ে কম বুঝেন। আমার এখানে মত হলোঃ বিডিজবস এর সিইও ফাহিম মোর্সেদ, রবির সাবেক সিইও মাহতাব উদ্দীন, আইবিএ বা বিজনেস ফ্যাকাল্টির যাদের এইসব নিয়ে রিসার্চ বা কাজের অভিজ্ঞতা আছে তারাই এখানে কাজ করবে এছাড়া বাহিরের দেশের থেকে এক্সপার্টিজ আনা উচিত। আরেকটা কাজ হতে পারেঃ স্টার্টআপ বাংলাদেশ একটি স্বতন্ত্রভাবে কাজ করার ক্ষমতা প্রদান করতে হবে।
পরিশেষে, আমার কথা হলো প্রতি বছর ১০০০ আইডিয়াকে ১০ লাখ গ্রান্ড দেওয়া হোক, এর থেকে ৫০ টা প্রতিষ্ঠান দাঁড় হোক দেশে, আর এর মধ্য ৫ টি এশিয়া ব্যাপী ব্যবস্যা করুক, ১ টা বিশ্বব্যাপী। এভাবে হলে আপনার ১০০ কোটি টাকা এই ৫০ টা প্রতিষ্ঠান ৫ বছরের এনে দিবে।
আমি টেক স্টার্টআপ নিয়ে সমস্যা গুলো জানানোর চেস্টা করবো, যাতে নতুন বাংলাদেশের নেত্বত্বে যারা আছেন, তারা কাজ করতে পারেন। আর সমস্যা সমাধান না হলে , সব কিছু ব্যর্থ হবে, আমরা চাই ৪০ বছরে চিন যা করছে আমরা ২০৫০ এর মধ্যে তাই করতে চাই।
